২২শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার, ভোর ৫:২৮
নোটিশ :
Wellcome to our website...

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ-এর মন্তব্য

রিপোর্টার / ৩৮ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

জবি প্রতিনিধি।।

দেশে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নের ৫০ শতাংশ নির্ভর করে গুণগত শিক্ষক নিয়োগের ওপর। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো চাপ বা প্রভাব থাকা যাবে না।

তাঁর মতে, ‘দেশে শিক্ষার মানের অবনতি ঘটেছে, এটি বলার জন্য আমাদের কোনো বিদেশি পণ্ডিতের প্রয়োজন নেই। আমরা নিজেরাই এটা জানি। শিক্ষার মানোন্নয়নে কেউ বলেন শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কেউবা বলেন অবকাঠামো উন্নয়নের কথা। আমি মনে করি না এগুলো এ ক্ষেত্রে কোনো সাহায্য করবে। আমি মনে করি, শিক্ষার মানোন্নয়নের ৫০ শতাংশ নির্ভর করে গুণগত নিয়োগের ওপর। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো চাপ বা প্রভাব থাকা যাবে না। সেরা প্রার্থীদেরই শিক্ষকতায় নিতে হবে, যাঁদের শিক্ষকতায় অঙ্গীকার ও একাগ্র আছে।’

কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যখন শিক্ষকতায় এসেছিলাম, ধনী হওয়ার জন্য আসিনি। জানতাম যে শিক্ষকতায় যোগ দিলে সামনে অর্থনৈতিক সংগ্রাম অপেক্ষা করছে। তবু শিক্ষকতায় এসেছিলাম। কারণ, আমাদের আগ্রহ ছিল জ্ঞান, সৃষ্টিশীলতা ও একাডেমিক স্বাধীনতায়। আমরা কোনো হাইফাই জীবন চাইনি।’

অনলাইন শিক্ষা প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, সরাসরি ক্লাসের বিকল্প কিছু হতে পারে না। কিন্তু এ–ও উপলব্ধি করেন যে ভোক্তাবান্ধব প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তির ব্যবহার ও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ইউজিসি শুরু থেকেই এ বিষয়ে সচেতন। নিজস্ব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই অনলাইন শিক্ষায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ডিভাইস কেনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ শক্তিশালী নয়। সংযোগ সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে। তবে পুরো বিষয়টিকে উন্নত করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। এ অঞ্চলের মানুষ ও সমাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান বহুমুখী। একদিকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এনেছে রাজনৈতিক অর্জন। দক্ষ মানবসম্পদ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিসহায়তা দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়েছে। দেশের এমন কোনো খাত নেই, যেখানে শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান নেই।

১৯৬৯ সালে ছাত্র হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্কের সূচনা। এরপর ১৯৭৩ সালে শিক্ষকতা শুরু, যা এখনো চলমান। সে হিসেবে শতবর্ষের পথচলার একটি বড় অংশজুড়ে আমিও ছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। সে অভিজ্ঞতা থেকে, যখন থেকে সংখ্যা গুরুত্ব পেতে থাকল, তখন থেকেই মানে ছেদ পড়া শুরু হয়। আশির দশক পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রমে মানই ছিল একমাত্র লক্ষ্য। কার কয়টা আর্টিকেল ছাপা হলো, সেটি মুখ্য ছিল না। কে কতটা মানসম্মত কাজ করতে পারল, সেটিরই মূল্যায়ন করা হতো।

কিন্তু নব্বইয়ের দশকের দিক থেকে সংখ্যা গুরুত্ব পেতে থাকল। এ পদের জন্য এতটা আর্টিকেল লাগবে—এ ধরনের সংখ্যাভিত্তিক নানা শর্ত আসতে থাকল। তখন শিক্ষকরাও সংখ্যায় মনোযোগ দিতে থাকলেন। এভাবেই ক্রমান্বয়ে মানসম্মত মৌলিক গবেষণা কমতে থাকে।

মান কমার আলোচনায় বেশির ভাগ সময়ই ল্যাব না থাকা ও গবেষণায় বরাদ্দ কম থাকাকে দায়ী করা হয়। তবে আমার মতে, মান কমার সবচেয়ে বড় কারণ শিক্ষক। শিক্ষার মানোন্নয়নের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নির্ভর করে গুণগত শিক্ষক নিয়োগের ওপর। এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পুরোপুরি মেধা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়করণ ও দলীয়করণের মতো তদবিরবাজি করা যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
এক ক্লিকে বিভাগের খবর